Monday, May 1, 2017

মল্লার

হঠাৎ খুলে গেল মেঘের চঞ্চল খোঁপা
গির্‌ গির্‌ করে উঠলো ঢোলের আওয়াজ
পহিলা বৈশাখে রংপুরের মাঠে

গত কালের কথায় তুমি অধিক বিচলিত
না আগামি কালের কথায়?

এসো, কালকে ভুলে গিয়ে
একটু বেঁচে থাকি

মধ্যরাত্রির ধারাসার মূর্ছনা
আমি যেন একটা ডিস্‌প্রিনের ট্যবলেট

ঢোলের আওয়াজ, তানপুরার আওয়াজ
ব্যাঙের কণ্ঠ - ঝিল্লীর পাখি

তোমার দেহ ছন্দে আমি ডুবে যেতে চাই
বিলীন হ'তে চাই তোমার
ঠোঁটের কম্পনে
নিজেকে সঞ্চয় করে রাখতে চাই তোমার চোখের
পাতায়

ভুলে যাওয়া রুমালে রয়ে যেতে দাও তোমার
অহমিকা

আমার মাঝে তুমি জন্ম নাও
তোমার মাঝে আমি
এসো, কাল-টাকে ভুলে যাই
গরীয়ান, শুধু এক লহমার জন্য এ জন্ম নেওয়া
কি এক গম্ভীর চঞ্চলতা
কাল-কে ভুলে যাই এসো।।


[প্রথম প্রকাশঃ তবুও]


তুমি বললে না

(তুমি ভাদ্র মাসের জীয়াভরলীর স্রোত দেখোনি
আকাশ দেখেছো চিলেকোঠার জানালা থেকে
সমুদ্র দেখো নি)

বলেছিলে জীবনটা জলের মতো সহজ
জল তবে কিসের মতো সহজ?

তুমি বললে না।।

বলেছিলে ভালোবাসা আকাশের মতো বিশাল
আকাশ তবে কিসের মতো বিশাল?

তুমি বললে না।।

বলেছিলে বেদনার রঙ নীল
নীলটা তবে কিসের মতো নীল?

তুমি বললে না।।




[প্রথম প্রকাশঃ তবুও]

ঝিঙে ফুল

আকাশটা যখন একটা অম্লাক্ত কাঁসার বাটি
তখন তোমার গানগুলি
এক একটা ঝিঙের ফুল হয়ে ফুটুক।।


[প্রথম প্রকাশঃ তবুও] 


বাইরে মেঘের গর্জন

বাইরে মেঘের গর্জন
আর তুমি জিগ্যেস করছো আমি এতো চঞ্চল কেন

আসল কথা
সমস্ত কিছু হারানোর পরেও
আমি এই টুকু চঞ্চলতা হারাতে পারলাম না
যা তুমি হারিয়েছো

তুমি তোমায় হারিয়ে ফেললেও
আমি তোমায় হারাতে পারলাম না

আসলে, আসল কথাটা বলবো কি
অনেক কিছুই হারিয়ে ফেলার পরেও
আমি কোন কিছুই হারাতে পারলাম না।।


[প্রথম প্রকাশঃ তবুও] 

Art: Divya Narang

তিন লিমেরিক (বরষা)


বরষা আসুক। ভরসা থাকুক।
রাঙিয়ে পুকুর ফুটুক শালুক।  
বাদলদিনে পায়রা
উধাও কোথা নেয়েরা?
নেয়ে ছাড়াই আজ নৌকো ডুলুক...   


প্রতি বিন্দু জল জানে যাচ্ছেতাই কেচ্ছা
পরস্পরে রটে মোদের বরাবরি কুৎসা
তাঁরে ঝুলতে গপ্পোবাজি
বিন্দুতে সিন্ধু কাণামাছি
জলে ডোবাবে বুঝি প্রেম পিরিতের ব্যাবসা।।

গুহ্যের গন্ধনিষ্কাষক নলের কাছে গুলঞ্চ
হেলেছে দুলেছে বর্ষা কালেতে ছন্দে দূরন্ত
কংক্রিট বেয়ে
আকাশ ছেয়ে
দিল্লী জানে রঙ ছড়াতে, বলি পুণঃ পুণশ্চ...  




কাণখোয়া পদাবলি


আকাশে দেখি ছুটোছুটি এখন আচকা মেঘের বাজীমাৎ।
গলিত এখন তাপিত পরাণ ধ্বনিত মাদলে অকস্মাৎ।।


নেশাখোর ছেঁচড়া মনে আত্মবঞ্চনা বারম্বার।
আজই ডাকি শেষ বার। আবার ডাকবো না আর।।


আজও কে কাঁদে ঝরো ঝরো নীড়ে নিবির তিমিরে।
ঝরা আখি মুক্তাধারা দেখি না যে বৃষ্টি ভেজা ঘরে।।


নব ঘন বরষায় বাউল হোল রবীন্দ্রনাথ।
কাণখোয়ার আজ ভেতর বাহির জমজমাট।।




Friday, March 24, 2017

কন্ডোম

অনেকের মতোই কন্ডোম পরতে আমিও নাই বা ভালো বাসতাম।
একদা বন্ধুদের সংগে গপ্পো করতে ব’সে বলে ফেললাম

কন্ডোম পরলে কেন জানি করে কেমন কেমন
এমন হতো - শ্বাস পচ্ছি না আর যেমন

তখনই এক বন্ধু বলে উঠলো- এ কি
ওদিক থেকে তুই শ্বাস নিস বুঝি?

ওটা তাহলে তোর হাতির শুঁড় নাকি?
যাই হোক, 'ওটা' 'ওটা' বলে যা বলে যাচ্ছি

ওটাতো হলো এক জৈবিক জিনিস, আস্ত অর্গ্যানিক।
কিছু একটা জিনিসে কন্ডোম পরিয়ে ফেললে- যা অজৈবিক

কাদের কিসের সমস্যা হ’তে পারে ভাবছি তাই
এই ধরে নাও ত্ৰিশূল একটাই

ভাবছি, ভেবেই যাচ্ছি, বদজাত শ্ৰীজাতের ন্যায় 
ত্ৰিশূল তো আর শ্বাস নেয় না! না কি নেয়?